আমরা এমন এক নিকৃষ্ট জাতি যারা আমাদের প্রিয় নবী এর জন্য যে মর্যাদা সূচক শব্দ ব্যবহার করি সেই শব্দই পুরো জাতির মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করি
তাহলে নবীর সম্মান আর অন্য মানুষদের সম্মান আমরা কিভাবে আলাদা করে দেখাচ্ছি কোন শব্দ দ্বারা দেখাচ্ছি?
আমাদের কি নবীর সম্মানের জন্য আলাদা কোনো শব্দ ব্যবহার করতে পারি না?
যে শব্দ শুধু নবীর ক্ষেত্রেই ব্যবহার হবে অন্য কারো জন্য সেই শব্দ ব্যবহার করা হবে না.
এখনকার আলেম সমাজ ও একজন আরেকজনকে হযরত বললে বেশ খুশি হয়।
আবার প্রিয় নবীর ক্ষেত্রেও তারা এই হযরত শব্দটি ব্যবহার করে।
তাহলে এই আলেম আর প্রিয় নবী এর মধ্যে তারা পার্থক্য রাখল কি??
হযরত শব্দটি ব্যবহারের ইতিহাস তুলে ধরলাম:
"হযরত" (আরবি: حضرة, উচ্চারণ: হাদরাত বা হযরত) শব্দটির ব্যবহার ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের প্রাথমিক যুগ থেকেই শুরু হয়েছে। এটি মূলত আরবি শব্দ, যার অর্থ “উপস্থিতি”, “মর্যাদা”, বা “সম্মানিত ব্যক্তি”।
### ইতিহাস ও ব্যবহার শুরু:
* **প্রথমদিকের ব্যবহার (৭ম শতাব্দী):** ইসলাম প্রচারের প্রারম্ভিক সময়ে, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগের পরে সাহাবাগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য “হযরত” শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে।
* **উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের সময়:** এই সময়ে এটি বিশেষভাবে ধর্মীয় নেতৃবর্গ, পীর-মাশায়েখ, নবী-রাসূলদের নামের আগে শ্রদ্ধাসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হত।
* **ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলন:** উপমহাদেশে ইসলাম বিস্তারের সময় (১২শ থেকে ১৫শ শতাব্দী) সুফি সাধকদের মাধ্যমে "হযরত" শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে। এটি ফারসি ভাষার প্রভাবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যেহেতু ফারসি ভাষায়ও “হযরত” শব্দটি সম্মানসূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
### বর্তমান ব্যবহার:
আজও “হযরত” শব্দটি মূলত:
* নবী-রাসূল (যেমন: **হযরত মুহাম্মদ (সা.)**),
* সাহাবা (যেমন: **হযরত আবু বকর (রা.)**),
* ইসলামী পণ্ডিত বা ওলি-আউলিয়া (যেমন: **হযরত শাহজালাল (রহ.)**)—এদের নামের আগে ব্যবহৃত হয় শ্রদ্ধা ও সম্মানের প্রকাশ হিসেবে।
### উপসংহার:
"হযরত" শব্দটির ব্যবহার আনুমানিকভাবে ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক যুগ (৭ম শতাব্দী) থেকে শুরু হয়েছে এবং তা কালক্রমে বিভিন্ন অঞ্চলে ও সংস্কৃতিতে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Comments
Post a Comment