তোমাতে যে আমার শুরু


## **গল্পের নাম: "তোমাতে যে আমার শুরু"**


### **পর্ব ১: দেখা ও প্রথম আলাপ**


রোদেলা একটা সাধারণ মেয়ের মতোই কলেজে যাওয়া, টিউশন পড়ানো আর নিজের ছোট দুনিয়ায় বাঁচা মেয়েটি। ঢাকার শাহবাগে একটি বইমেলায় বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল সে। বই ভালোবাসতো, কিন্তু সেদিনকার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল একটা হঠাৎ করে চোখে পড়া ছেলেটি—আরিয়ান।


আরিয়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, পড়াশোনা করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে। বইমেলার এক কোণায় দাঁড়িয়ে সে একজন লেখকের নতুন বই নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলছিল। রোদেলার চোখ আটকে গেল তার চেহারায় নয়, বরং তার কথা বলার ভঙ্গিতে। মুগ্ধ হওয়ার মতো কিছু ছিল ওতে।


আলতোভাবে ধাক্কা লাগলো দুজনের।


— "সরি, খেয়াল করিনি!"

— "না না, ঠিক আছে। আপনি বই কিনছেন?"


এই প্রথম কথোপকথন। এরপর ছোট্ট হাসি, পরিচয়, আর শেষে ফোন নম্বর বিনিময়।


### **পর্ব ২: পার্কে দেখা ও একে অপরকে জানা**


এরপর শুরু হলো নিয়মিত কথা বলা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ‘শুভ রাত্রি’, সকালে ‘শুভ সকাল’।


দুজনেই সিদ্ধান্ত নিল একদিন ধানমণ্ডি লেকের পার্কে দেখা করবে। সেই দিনটায় আকাশে হালকা মেঘ ছিল। গাছে গাছে নতুন পাতার ঝিলিক, আর দুজনের মধ্যে এক অজানা অনুভূতির জন্ম।


দুজনেই নিজেদের জীবনের গল্প বলতে শুরু করলো। রোদেলা তার ছোট বোনকে নিয়ে কথা বললো, আরিয়ান তার গ্রামের বাড়ির নদীর গল্প বললো।


ধীরে ধীরে পার্কের বেঞ্চে বসা থেকে শুরু করে রিকশায় ঘোরা, একসঙ্গে আইসক্রিম খাওয়া—এই সব ছোট ছোট মুহূর্তগুলো তাদের সম্পর্ককে গড়তে লাগলো।


### **পর্ব ৩: কক্সবাজারে ভালোবাসার পরিপূর্ণতা**


প্রায় এক বছর পর, তারা প্রথমবার দূরে কোথাও বেড়াতে গেল—কক্সবাজার। দুই পরিবারই জানত তাদের বন্ধুত্বের কথা, তাই অনুমতিও মিলেছিল সহজেই।


কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের এক সন্ধ্যায়, যখন সূর্য লাল হয়ে নেমে যাচ্ছিল, আরিয়ান হঠাৎ করেই বললো:


— “তুমি কি জানো, এই সমুদ্র যেমন বিশাল, তেমনি আমার ভালোবাসাও তোমার জন্য অসীম।”


রোদেলার চোখে জল চলে এলো। হাত ধরে সে বললো, “তুমি যদি চাও, আমি তোমার পাশে চিরকাল থাকতে চাই।”


### **পর্ব ৪: বিয়ে—এক নতুন শুরু**


কক্সবাজার থেকে ফিরে আসার এক মাস পর, দুজনের পরিবার মিলে ঠিক করলো বিয়ের দিন। অনুষ্ঠানটি ছোট হলেও ভীষণ আবেগঘন ছিল। রোদেলা ছিল লাল বেনারসীতে, আর আরিয়ান ছিল সাদাকালো পাঞ্জাবীতে।


বিয়ের দিন সন্ধ্যায় আরিয়ান রোদেলার কানে ফিসফিস করে বলেছিল,


— “আমার বউটা যেন ঠিক গল্পের রাজকন্যার মতো লাগছে।”


### **পর্ব ৫: হানিমুন—নেপালে ভালোবাসার গল্প**


বিয়ের পর দুজনেই সিদ্ধান্ত নেয় হানিমুনে যাবে নেপালে। কাঠমাণ্ডু শহরের প্রাচীন মন্দির, পোখারার হিমালয় দেখতে দেখতে যেন তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হতে লাগলো।


পোখারার একটি হ্রদের পাশে বসে রোদেলা হঠাৎ বলে উঠল, “এই জীবন যদি শেষ না হতো, আমি শুধু তোমার হাত ধরে চিরকাল ঘুরে বেড়াতাম।”


আরিয়ান মুচকি হেসে বললো, “তাহলে কথা দাও, পরের জন্মেও তুমি আমার হবেই।”


রোদেলা হাসলো, চোখে জল চিকচিক করছিল, কিন্তু ওটা ছিল খুশির অশ্রু।


---


### **শেষ কথা:**


তাদের গল্পটা আজও চলছে। তারা এখনো সময় পেলে পার্কে যায়, মাঝেমাঝে কক্সবাজারেও ঘুরতে যায়। কিন্তু তাদের হৃদয়ের সবচাইতে সুন্দর স্মৃতি হয়তো রয়ে গেছে সেই হিমালয়ের কোল ঘেঁষে, যেখানে এক দম্পতি বসে বলেছিল—“ভালোবাসা মানেই একে অপরের পাশে থাকা, যত দিন পৃথিবী আছে।”


---

Comments